Header Ads

Header ADS
আন্তর্জাতিক লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
আন্তর্জাতিক লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

৭ দিনে রেমিট্যান্স এলো ৯ হাজার কোটি টাকা


দেশের ইতিহাসে রেমিট্যান্স আসায় একের পর এক রেকর্ড হয়েছে। সর্বোচ্চ এবং দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স এসেছে যথাক্রমে মার্চ ও এপ্রিলে। রেমিট্যান্স আসার সেই ধারা এখনো অব্যাহত রয়েছে। চলমি মাস মে’র প্রথম সাত দিনেই ৭৩ কোটি ৫০ লাখ ডলারের রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয় দেশে এসেছে। বাংলাদেশি মুদ্রায় (প্রতি ডলার ১২২ টাকা হিসাবে) যার পরিমাণ প্রায় ৯ হাজার কোটি (৮ হাজার ৯৬৭ কোটি) টাকা। আর প্রতিদিন আসছে ১০ কোটি ৫০ লাখ ডলার বা ১২৮১ কোটি টাকা। এভাবে রেমিট্যান্স এলে চলতি মাসে আবারও রেকর্ড হতে যাচ্ছে অর্থাৎ তিন বিলিয়ন ডলার অতিক্রম করতে যাচ্ছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা যায়, মে মাসের প্রথম সাত দিনে ৭৩ কোটি ৫০ লাখ ডলারের রেমিট্যান্স এসেছে। যা তার আগের বছরের একই সময়ে (মে, ২০২৪) সাড়ে ১৩ কোটি ডলার বেশি। ২০২৪ সালের মে মাসের প্রথম সাত দিনে এসেছিল ৬০ কোটি ১০ লাখ ডলারের রেমিট্যান্স।

আর চলতি অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাই থেকে মে মাসের সাতদিন পর্যন্ত দেশে মোট ২ হাজার ৫২৭ কোটি ৩০ লাখ ডলারের রেমিট্যান্স এসেছে। যা গত ২০২৩-২৪ অর্থবছরের জুলাই থেকে মে মাসের সাতদিন পর্যন্ত এসেছিল এক হাজার ৯৭২ কোটি ডলার। সে হিসাবে গত অর্থবছরের তুলনায় এখন পর্যন্ত সাড়ে ৫ বিলিয়ন ডলার বেশি এসেছে। অর্থবছরের হিসাবে চলতি অর্থবছরে এখন পর্যন্ত রেমিট্যান্স আসার প্রবৃদ্ধি ২৮.২ শতাংশ।

২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে ১৯১ কোটি ৩৭ লাখ ৭০ হাজার ডলার রেমিট্যান্স এসেছে, আগস্টে এসেছে ২২২ কোটি ১৩ লাখ ২০ হাজার মার্কিন ডলার, সেপ্টেম্বরে এসেছে ২৪০ কোটি ৪১ লাখ, অক্টোবরে এসেছে ২৩৯ কোটি ৫০ লাখ মার্কিন ডলার, নভেম্বর মাসে এসেছে ২২০ কোটি ডলার, ডিসেম্বরে এসেছে ২৬৪ কোটি ডলার, জানুয়ারিতে ২১৯ কোটি ডলার এবং ফেব্রুয়ারিতে ২৫৩ কোটি ডলার, মার্চে ৩২৯ কোটি ডলার এবং সবশেষ এপ্রিলে আসে ২৭৫ কোটি ডলারের রেমিট্যান্স।

বিশ্ববাজারে ইতিহাসে সর্বোচ্চ সোনার দাম


 বিশ্ববাজারে সোনার মূল্যবৃদ্ধির জেরে ভারতের বাজারেও সোনার দাম বাড়ছে। দেশটির বাজারে ১০ গ্রাম সোনার দাম ৬৪ হাজার রুপি ছাড়িয়েছে। এতে বিয়ের মৌসুমে গয়নার কেনাকাটা কমে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

টাইমস অব ইন্ডিয়া জানায়, ভারতের বাজারে ৯৯৯ মাত্রার বিশুদ্ধ সোনার দাম আরও বেশি। করসহ প্রতি ১০ গ্রাম এই সোনার দাম ৬৭ হাজার ৫০০ রুপিতে উঠেছে। এটি ভারতের বাজারে এযাবৎকাল সোনার সর্বোচ্চ দাম।

গতকাল সোমবার বিশ্ববাজারে সোনার দাম আউন্সপ্রতি ২ হাজার ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যায়। এ নিয়ে টানা তিন দিন সোনার দাম বাড়ল। মূল্যবৃদ্ধির পেছনে লোহিত সাগরে মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ও কিছু বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার প্রভাব আছে। গতকাল বিকেল থেকে অবশ্য বিশ্ববাজারে সোনার দাম কিছুটা কমতে শুরু করেছে। আজ মঙ্গলবার সকালে সোনার দাম প্রতি আউন্স ২ হাজার ৩৬ ডলারে নেমে এসেছে।

ইন্ডিয়ান বুলিয়ন অ্যান্ড জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সুরেন্দ্র মেহতা টাইমস অব ইন্ডিয়াকে বলেছেন, বিশ্ববাজারে সোনার মূল্যবৃদ্ধিতে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার প্রভাব আছে। দুই মাস আগে যেখানে বিশ্ববাজারে সোনার দাম ছিল আউন্সপ্রতি ১ হাজার ৮২০ ডলার গতকাল তা প্রায় ২ হাজার ১৫০ ডলারে উঠে যায়। এই মূল্য সংশোধন হওয়া জরুরি। সোনার দাম বাড়তে কেবল কিছু খবর প্রয়োজন।

অল ইন্ডিয়া জেমস অ্যান্ড জুয়েলারি ডমেস্টিক কাউন্সিলের সাবেক পরিচালক অবিনাশ গুপ্ত বলেছেন, মৌলিক কারণে এই মূল্যবৃদ্ধি হয়নি। মূলত যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ প্রত্যাশিত সময়ের আগেই নীতি সুদহার হ্রাস করবে, এই ধারণার কারণে সোনার দাম বাড়ছে।

বিয়ের মৌসুমের ঠিক শুরুতে গয়নার মূল্যবৃদ্ধির কারণে কপালে হাত চাপড়াচ্ছেন ক্রেতা-বিক্রেতাদের অনেকে। ভারতের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে খবর, গয়নার বড়-ছোট সব দোকানেই বিক্রি কমেছে, বিশেষ করে ছোটা দোকানগুলোর বেচাকেনা তলানিতে ঠেকেছে। ক্রয়াদেশ কমে যাওয়ায় কারিগরদের আয়-রোজগারও কমছে।

জেম অ্যান্ড জুয়েলারি ডমেস্টিক কাউন্সিলের পরিচালক সমর দে এবং সেনকো গোল্ড অ্যান্ড ডায়মন্ডসের এমডি শুভংকর সেনের শঙ্কা, সোনার দাম আরও বাড়তে পারে। তাঁদের বক্তব্য, বিশ্ববাজারে সোনার দাম বাড়ছে, সঙ্গে চিন্তা বাড়ছে ভারতে। ২৪ ক্যারেটের সোনার দাম প্রতি ১০ গ্রাম ৭০ হাজারে উঠলেও অবাক হওয়ার কিছু নেই। সে ক্ষেত্রে হলমার্ক করা গয়নার সোনার দাম আরও বেড়ে যেতে পারে।

এই পরিস্থিতিতে টিকে থাকতে ভারতের বড় বড় সোনার দোকানগুলো নতুন কৌশল নেওয়ার কথা ভাবছে। তারা এখন কম ওজনের গয়না তৈরিতে ঝুঁকবে বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের খবরে জানা গেছে।

চলতি বিয়ের মৌসুমে ভারতে প্রায় ৩৮ লাখ বিয়ের অনুষ্ঠান হতে পারে। তাতে পণ্য, সেবাসহ মোট ৪ দশমিক ৭৪ লাখ কোটি রুপির ব্যবসা হবে বলে ধারণা। সেটা হলে গত বছরের তুলনায় বিয়ের অর্থনীতিতে বড় ধরনের প্রবৃদ্ধি হবে বলে এনডিটিভি জানিয়েছে। গত বছর সাড়ে ৩৭ লাখ বিয়ের অনুষ্ঠানে প্রায় ৩ দশমিক ৭৫ লাখ কোটি রুপির ব্যবসা হয়েছে।

দ্য কনফেডারেশন অব অল ইন্ডিয়া ট্রেডার্স (সিএআইটি) ধারণা করছে, এবারের বিয়ের মৌসুমে শাড়ি ও কাপড়ে ১০ শতাংশ, গয়না ও অন্যান্য খাতে ১৫ শতাংশ, ইলেকট্রনিকস, ইলেকট্রিক্যাল ও দীর্ঘস্থায়ী পণ্যে ৫ শতাংশ, খাদ্যশস্য, মুদিপণ্য, সবজিতে ৫ শতাংশ, উপহারসামগ্রীতে ৪ শতাংশ এবং অন্যান্য খাতে ৬ শতাংশ অর্থ খরচ হবে।

নির্বাচনে পর্যবেক্ষক পাঠাবে না জাতিসংঘ


 দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দেশের জনগণ যাতে স্বাধীনভাবে ভোট দিতে পারে তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘ। সেইসঙ্গে সংস্থাটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে নির্বাচনে পর্যবেক্ষক পাঠাবে না তারা।

জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের মুখপাত্র স্টিফেন ডুজারিক প্রেস ব্রিফিংয়ে একথা জানানো হয়।

ব্রিফিংয়ে প্রশ্ন করা হয়, হিউম্যান রাইটস ওয়াচের প্রতিবেদন অনুযায়ী বাংলাদেশে বিরোধী দলের নেতা-কর্মী ও সমালোচকদের ওপর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চলমান দমন-পীড়ন একটি অবাধ-সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠান অসম্ভব করে তুলেছে। বাংলাদেশের মানুষের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে জাতিসংঘ মহাসচিব কী পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছেন?

জবাবে জাতিংঘ মহাসচিবের মুখপাত্র বলেন, না, আমাদের সেরকম কিছু নেই। জাতিসংঘ এ নির্বাচনে কোনো পর্যবেক্ষক পাঠাচ্ছে না। সুনির্দিষ্ট/বিশেষ কোনো কারণ না থাকলে আমরা এটা করিও না। আমরা মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ এবং অন্যান্য সংস্থার প্রতিবেদন দেখেছি। আমরা আবারও সংশ্লিষ্ট সব দলের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি যাতে জনগণ অবাধে, স্বাধীনভাবে তাদের মতামত প্রকাশ করতে পারে, তা যেন হয়রানি মুক্ত হয়।

পররাষ্ট্র সচিবের সঙ্গে পিটার হাসের বৈঠক

 


পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেনের সঙ্গে বৈঠক করেছেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত পিটার হাস। বৈঠকে ঢাকায় অবস্থানরত ওয়াশিংটনে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ ইমরান, উত্তর আমেরিকা অনুবিভাগের মহাপরিচালক খন্দকার মাসুদ উল আলম উপস্থিত ছিলেন।  

বৃহস্পতিবার বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যান্ত রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় ঘণ্টাব্যাপী এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। 

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বজুড়ে শ্রম ইস্যুতে তাদের নীতি জোরদার করার ঘোষণা দিয়েছে। ওই নীতি ঘোষণার দিনে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্থনি ব্লিনকেন বাংলাদেশের গার্মেন্টস অধিকার নিয়ে কাজ করা নেত্রী কল্পনা আক্তারের জেল-জুলুমের প্রসঙ্গ টেনেছেন। প্রেসিডেন্ট বাইডেনের ওই মেমোরেন্ডাম বলে বাংলাদেশকে টার্গেট করা হতে পারে এমন আশঙ্কা ব্যক্ত করে ওয়াশিংটনের বাংলাদেশ দূতাবাস এরই মধ্যে সরকারকে এ ব্যাপারে সতর্ক হওয়ার পরামর্শ দিয়েছে। গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ করার জন্য আগেই ভিসানীতি ঘোষণা করেছে ওয়াশিংটন। সেই নীতি কার্যকরও হচ্ছে। 

পররাষ্ট্র সচিবের সঙ্গে পিটার হাসের আজকের বৈঠকের বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে এখনো তেমন কিছু জানানো হয়নি। তবে ধারণা করা হচ্ছে সমসাময়িক বিষয়াদি নিয়েই হয়তো এই বৈঠক হয়েছে। সঙ্গত কারণেই সেখানে, রাজনীতি, শ্রমনীতি, নির্বাচন প্রসঙ্গ আসবে।

স্মরণ করা যায়, পূর্বনির্ধারিত ১০ দিনের ছুটি কাটিয়ে সোমবার ঢাকায় ফিরেছেন পিটার হাস। এর আগে গত ১৬ নভেম্বর তিনি শ্রীলংকান এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে ঢাকা ছাড়েন। রাষ্ট্রদূত ও কূটনীতিকদের তাদের কর্মস্থল থেকে নিজ দেশে বা অন্যত্র ছুটিতে যাওয়া স্বাভাবিক নিয়ম হলেও রাষ্ট্রদূত পিটার হাসের সফরটি বেশ আলোচিত হয়।


যুক্তরাষ্ট্রে কমেছে পোশাক রপ্তানি

 


দেশের রপ্তানি আয়ের প্রধান খাত তৈরি পোশাক। আর বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের সবচেয়ে বড় বাজার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। কিন্তু সম্প্রতি এই দেশে তৈরি পোশাকের চাহিদা কমেই চলছে। তাতে কমে এসেছে রপ্তানি আয়ের পরিমাণ।

চলতি বছরের প্রথম নয় মাসে (জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে পোশাক রপ্তানি কমেছে ২৩ দশমিক ৩৩ শতাংশ। এর মধ্যে শুধু সেপ্টেম্বর মাসেই রপ্তানি কমেছে প্রায় ৩৫ শতাংশ (৩৪ দশমিক ৭১ শতাংশ)।

যুক্তরাষ্ট্রের (ইউএস) ডিপার্টমেন্ট অব কমার্সের অফিস অব টেক্সটাইল অ্যান্ড অ্যাপারেল প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা গেছে। এই প্রতিবেদনে সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত হালনাগাদ তথ্য রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুসারে, গত জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর সময়ে দেশটিতে বাংলাদেশ ৫ দশমিক ৭৮ বিলিয়ন ডলারের তৈরি পোশাক রপ্তানি করেছে, আগের বছরের একই সময়ে যার পরিমাণ ছিল ৭ দশমিক ৫৪ বিলিয়ন ডলার। বছরের ব্যবধানে দেশটিতে পোশাক রপ্তানি কমেছে ১ দশমিক ৭৬ বিলিয়ন ডলার বা ১৭৬ কোটি ডলার।

অন্যদিকে চলতি বছরের সেপ্টেম্বর মাসে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানির পরিমাণ ছিল ৫৯ কোটি ৪৭ লাখ ডলার। গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে দেশটিতে ৯১ কোটি ১০ লাখ ডলারের পণ্য রপ্তানি করেছিল বাংলাদেশ। অর্থাৎ গত বছরের সেপ্টেম্বরের তুলনায় এ বছরের সেপ্টেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি পোশাক রপ্তানি বাবদ আয় কমেছে ৩ কোটি ১৬ লাখ ডলার।

রপ্তানিকারকরা বলেছেন, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট অর্থনৈতিক মন্দা এবং উচ্চ-মূল্যস্ফীতির কারণে যুক্তরাষ্ট্রের ভোক্তাদের ক্রয়-ক্ষমতা কমে গেছে। আর এ কারণে কমেছে তৈরি পোশাকের চাহিদা। দেশটিতে তৈরি পোশাক রপ্তানিতে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।

তাদের মতে, এমন পরিস্থিতি আরও তিন থেকে চার মাস বিরাজ করতে পারে। তারপর হয়তো ধীরে ধীরে রপ্তানি বাড়তে পারে।

১০ তারিখের মধ্যে সরকার পদত্যাগ করতে হবে। চরমোনাই

 জাতীয় সরকারের অধীনে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন, সংখ্যানুপাতিক নির্বাচন পদ্ধতির প্রবর্তন এবং বর্তমান নির্বাচন কমিশন বাতিলের দাবিতে মহাসমাবেশ করেছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। শুক্রবার (৩ নভেম্বর) দুপুরে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে এ মহাসমাবেশ করে দলটি।

মহাসমাবেশ থেকে নতুন কর্মসূচির ঘোষণা করেছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির ও চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করিম।

ঘোষিত কর্মসূচিগুলো হলো-

১. ১০ নভেম্বর ২০২৩-এর মধ্যে সরকারকে পদত্যাগ করে এবং জাতীয় সংসদ ভেঙে দিয়ে সব নিবন্ধিত এবং প্রতিনিধিত্বশীল আন্দোলনরত রাজনৈতিক দলের সমন্বয়ে গঠিত জাতীয় সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে হবে।

২. বিদ্যমান রাজনৈতিক সংকট নিরসনে আগামী ১ সপ্তাহের মধ্যে রাজনৈতিক কারণে কারারুদ্ধ বিএনপিসহ সব শীর্ষ নেতাদের মুক্তি দিয়ে রাষ্ট্রপতিকে সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জাতীয় সংলাপের উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।

৩. সরকার এসব দাবি মেনে না নিলে, আন্দোলনরত সব বিরোধীদলের সঙ্গে আলোচনা করে পরে কঠোর ও বৃহত্তর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

৪. জনগণের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার দাবিতে এবং অবৈধ সরকারের পতনের লক্ষ্যে বিএনপিসহ বিরোধীদলগুলোর সব শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির প্রতি সমর্থন ঘোষণা করছি।


বাংলাদেশে নির্বাচনের আগে হয়রানি, নির্বিচার গ্রেপ্তার, সহিংসতা দেখতে চায় না জাতিসংঘ

 


বাংলাদেশে জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে কোনো হয়রানি, নির্বিচার গ্রেপ্তার বা সহিংসতা দেখতে চায় না জাতিসংঘ।

গতকাল বুধবার জাতিসংঘ মহাসচিবের মুখপাত্রের কার্যালয়ের নিয়মিত প্রেস ব্রিফিংয়ে এ কথা বলা হয়। প্রেস ব্রিফিংয়ে কথা বলেন জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের মুখপাত্র স্টিফেন ডুজারিক।

আরও পড়ুন

বাংলাদেশের নির্বাচন ইস্যুতে জাতিসংঘের অবস্থানের পরিবর্তন হয়নি

প্রেস ব্রিফিংয়ে এক সাংবাদিক প্রশ্ন করেন, বিরোধীদের লক্ষ্যবস্তু বানিয়ে, হয়রানি করে, কারাবন্দী করে নির্বাচন করা হলে, তা যে সুষ্ঠু বলে বিবেচিত হবে না, সে বিষয়ে জোর দিতে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অংশীদারদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচ। গত মঙ্গলবার পুলিশের গুলিতে বিরোধী দলের অন্তত তিনজন নিহত হয়েছেন। জাতিসংঘের মহাসচিব কি সংস্থার এই সদস্যরাষ্ট্রের পরিস্থিতিকে গুরুত্বের সঙ্গে নিচ্ছেন?

জবাবে মুখপাত্র স্টিফেন ডুজারিক বলেন, তিনি মনে করেন, বাংলাদেশ বিষয়ে জাতিসংঘের অবস্থান, দেশটিতে অবাধ-সুষ্ঠু নির্বাচনের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে সংস্থার অবস্থান তাঁরা খুব স্পষ্টভাবেই বলে দিয়েছেন।

স্টিফেন ডুজারিক আরও বলেন, এই সময়ের মধ্যে কোনো হয়রানি, নির্বিচার গ্রেপ্তার বা সহিংসতা তাঁরা দেখতে চান না। এসবের বিরুদ্ধেও তাঁরা কথা বলেছেন।

আরও পড়ুন

বাংলাদেশে সব পক্ষকে সহিংসতা, অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জাতিসংঘের

সায়মা ওয়াজেদ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার আঞ্চলিক পরিচালক নির্বাচিত


সরকার বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের (এসইএআরও) আঞ্চলিক পরিচালক পদে বঙ্গবন্ধুর নাতনি সায়মা ওয়াজেদ নির্বাচিত হয়েছেন।

বুধবার (১ নভেম্বর) নয়াদিল্লি থেকে ফেসবুক বার্তায় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম এ তথ্য জানান।

   
Advertisement: 0:06

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লিখেছেন, সায়মা ওয়াজেদ ৮-২ ভোটে নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি আগামী ৫ বছরের জন্য দায়িত্ব পালন করবেন।

বাংলাদেশ সরকার বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের আঞ্চলিক পরিচালক পদে সায়মা ওয়াজেদকে মনোনীত করেছিল। ডব্লিউএইচও দক্ষিণ পূর্ব অঞ্চলবিষয়ক অফিস ওই সংস্থার ছয়টি আঞ্চলিক অফিসের মধ্যে একটি। এটি সদস্য দেশগুলোর প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে গঠিত।প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কন্যা সায়মা ওয়াজেদ হোসেন ১৯৯৭ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ব্যারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মনোবিজ্ঞানে স্নাতক এবং ২০০২ সালে ক্লিনিক্যাল মনস্তত্ত্বে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ২০০৪ সালে স্কুল সাইকোলজির ওপর বিশেষজ্ঞ ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যারি বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নের সময় তিনি বাংলাদেশের নারীদের উন্নয়নের ওপর গবেষণা করেন। এ বিষয়ে তার গবেষণাকর্ম ফ্লোরিডার অ্যাকাডেমি অব সায়েন্সের কাছ থেকে শ্রেষ্ঠ সায়েন্টিফিক উপস্থাপনা হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করে।সায়মা ওয়াজেদ ২০০৮ সাল থেকে শিশুদের অটিজম এবং স্নায়ুবিক জটিলতা সংক্রান্ত বিষয়ের ওপর কাজ করছেন। তিনি ২০১১ সালে ঢাকায় অটিজম বিষয়ক প্রথম দক্ষিণ এশীয় সম্মেলন আয়োজন করেন।

২০১৩ সাল থেকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থায় মানসিক স্বাস্থ্যের বিশেষজ্ঞ পরামর্শক হিসেবে কাজ করছেন। যার স্বীকৃতিস্বরূপ, বিশ্ব সংস্থা কর্তৃক ২০১৪ সালে ডব্লিউএইচ ও অ্যাক্সিলেন্স পুরস্কারে ভূষিত হন।

বাংলাদেশিদের জন্য ভিসা বন্ধ করলো ওমান


 বাংলাদেশের নাগরিকদের ভিসা দেয়া বন্ধ করেছে ওমান। মঙ্গলবার (৩১ অক্টোবর) এক বিবৃতিতে রয়্যাল ওমান পুলিশ (আরওপি) এ তথ্য জানিয়েছে।


আরওপি জানায়, ইতোমধ্যে এ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা হয়েছে। সবধরনের বাংলাদেশি নাগরিকদের নতুন ভিসা ইস্যু স্থগিত করা হয়েছে। পর্যটন ও ভ্রমণ ভিসায় আসা প্রবাসীদেরও ভিসা পরিবর্তনের সুযোগ বন্ধ করা হয়েছে।

ওমানভিত্তিক সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ওমান এবং মাসকাট ডেইলির প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়, এর আগে পর্যটন ও ভ্রমণ ভিসায় ওমানে এসে ভিসা নিতে পারতেন প্রবাসী কর্মীরা। 

ফলে এভাবে যারা দেশটিতে অবস্থান করছেন, তাদের দেশে ফিরে আসতে হবে। পরে কাজের ভিসা নিয়ে আবার সেখানে ফিরতে হবে।


আরওপি জানিয়েছে, পর্যটন ও ভ্রমণ ভিসায় সুলতানাত অব ওমানে আসা সব দেশের নাগরিকের ভিসা পরিবর্তনের সুবিধা স্থগিত করা হয়েছে।

একই সঙ্গে বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য সবধরনের ভিসা ইস্যু বন্ধ করা হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশনা না দেয়া পর্যন্ত এ স্থগিতাদেশ কার্যকর থাকবে।

নির্বাচনে পর্যবেক্ষক টিম পাঠাবে ইইউ, থাকবে দুই মাস


 আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পর্যবেক্ষক না পাঠানের বিষয়ে যে আলোচনা চলছিল, তাতে পানি ঢেলে দিলো ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। সংস্থাটি আনুষ্ঠানিক এক চিঠি দিয়ে পর্যবেক্ষক পাঠাবে বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন

বৃহস্পতিবার (১৯ অক্টোবর) সন্ধ্যায় বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নির্বাচন কমিশনের (ইসি) একাধিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা।

চিঠিতে বলা হয়েছে, আগামী ২১ নভেম্বর থেকে ২১ জানুয়ারি পর্যন্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নের পর্যবেক্ষকরা বাংলাদেশের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পর্যবেক্ষণের জন্য অবস্থান করবেন। এ সময় তাদের চার সদস্যের প্রতিনিধিদল ভোট পর্যবেক্ষণ করবে। সঙ্গে থাকবেন টেকনিক্যাল টিমের দুই সদস্য।

এ বিষয়ে ইসির অতিরিক্ত সচিব অশোক কুমার দেবনাথ বলেন, ‘চার থেকে পাঁচ সদস্যের পর্যবেক্ষক টিম পাঠাবে বলে জানিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। তারা নির্বাচনের তফসিলের সময়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দেশে অবস্থান করবে।’


মুকেশ আম্বানি আবার ভারতের শীর্ষ ধনী, আদানিসহ অন্যরা কোথায়


ফোর্বস ম্যাগাজিনের ভারতের শীর্ষ ১০০ ধনীর তালিকায় আবার শীর্ষে উঠে এসেছেন মুকেশ আম্বানি। এত দিন যে জায়গা ছিল আরেক ধনকুবের গৌতম আদানির। কিন্তু হিনডেনবার্গ প্রতিবেদনের জেরে গৌতম আদানির সম্পদমূল্য অনেকটা কমে যাওয়ায় তিনি দ্বিতীয় স্থানে নেমে গেছেন।

ইকোনমিক টাইমসের সংবাদে ফোর্বসের তথ্য উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, মুকেশ আম্বানির সম্পদমূল্য এখন ৯২ বিলিয়ন বা ৯ হাজার ২০০ কোটি ডলার। মুকেশ আম্বানি বিভিন্ন খাতে ব্যবসা সম্প্রসারণ করেছেন। গত আগস্ট মাসে তিন সন্তানকে রিলায়েন্সের পরিচালনা পর্ষদে বিনা বেতনে নিয়োগ দিয়েছেন। অর্থাৎ তিনি উত্তরাধিকার–পরিকল্পনা করে ফেলেছেন।

এদিকে গৌতম আদানি সম্পর্কে ফোর্বসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অবকাঠামো খাতের টাইকুন গৌতম আদানি গত বছর ভারতের ধনীদের তালিকায় প্রথমবার মুকেশ আম্বানিকে পেছনে ফেলে শীর্ষে উঠে এসেছিলেন। তাঁর উত্থান হয়েছিল উল্কার গতিতে। কিন্তু চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে শর্টসেলার হিনডেনবার্গ রিসার্চের প্রতিবেদনের জেরে আদানির সম্পদমূল্য অনেকটাই কমে যায়।

প্রাথমিক ধাক্কা কাটিয়ে ওঠার পর গৌতম আদানি কিছুটা ঘুরে দাঁড়ালেও হিনডেনবার্গ প্রতিবেদন প্রকাশিত হওয়ার জেরে এ পর্যন্ত আদানির সম্পদমূল্য কমেছে ৮ হাজার ২০০ কোটি ডলার। আজ এই প্রতিবেদন লেখার সময় গৌতম আদানির সম্পদমূল্য ছিল ৬৮ বিলিয়ন বা ৬ হাজার ৮০০ কোটি ডলার।

দেখে নেওয়া যাক, ফোর্বস ম্যাগাজিনের ২০২৩ সালের ভারতের শীর্ষ ধনীদের তালিকায় আর কে কে আছেন:

১. মুকেশ আম্বানি: ৯ হাজার ২০০ কোটি ডলার

২. গৌতম আদানি: ৬ হাজার ৮০০ কোটি ডলার

৩. শিব নাদার: ২ হাজার ৯৩০ কোটি ডলার

৪. সাবিত্রী জিন্দাল: ২ হাজার ৪০০ কোটি ডলার

৫. রাধাকিষান দামানি: ২ হাজার ৩০০ কোটি ডলার

৬. সাইরাস পুনাওয়ালা: ২ হাজার ৭০ কোটি ডলার

৭. হিন্দুজা ফ্যামিলি: ২ হাজার কোটি ডলার

৮. দিলীপ সাংভি: ১ হাজার ৯০০ কোটি ডলার

৯. কুমার বিড়লা: ১ হাজার ৭৫০ কোটি ডলার

১০. শাপুর মিস্ত্রি ও পরিবার: ১ হাজার ৬৯০ কোটি ডলার।

অঙ্ক পরীক্ষার সময় আগেও ফিলিস্তিনে যুদ্ধ বেধেছে


বেথলেহেমের পূর্বে ফিলিস্তিনের শহর বেইত সাহোরের আকাশ গত শনিবার সকালে পরিষ্কার ছিল। সকাল সাড়ে সাতটার দিকে শিক্ষার্থীরা স্কুলের ফটকের বাইরে মা-বাবাকে বিদায় জানিয়ে ভেতরে ঢুকে পড়ে। বন্ধুদের শুভেচ্ছা জানিয়ে আসন্ন পরীক্ষা নিয়ে আলোচনা করছিল। সবাই বুকে হাত দিয়ে জাতীয় সংগীত গেয়ে প্রথম ক্লাসে ঢুকে পড়ে।

সকাল ৭টা ৫০ মিনিটে প্রথম ক্লাস শুরু হয়। ৮টা ২০ মিনিটের দিকে বিস্ফোরণের বিকট শব্দ। এর পরপরই ফোনে শিক্ষকেরা নিশ্চিত হয়ে যান, ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার শব্দ এটি। এর মধ্যেই সাড়ে আটটায় স্কুলের ঘণ্টা বাজে। যথারীতি শুরু হয় দ্বিতীয় ক্লাস।

ক্লাসে শিক্ষার্থীরা কেউ অঙ্কের সমাধান করছিল, কেউবা ইংরেজি বই পড়ছিল। শিক্ষার্থীদের পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে বার্তা পেয়ে তা সবাইকে জানাচ্ছিলেন শিক্ষকেরা। ততক্ষণে এসব সংবাদ গণমাধ্যমে পৌঁছায়নি। বিষয়টি জরুরি ছিল, কিন্তু কারও মনে কোনো ভয় ছিল না। কারণ, এ ধরনের ঘটনা ফিলিস্তিনে নতুন কিছু নয়।

সকাল পৌনে নয়টায় স্কুল প্রশাসন একটি অফিশিয়াল নোটিশ দেয়। নোটিশে বলা হয়, নিরাপত্তার জন্য অভিভাবকেরা যেন দ্রুত স্কুল থেকে তাঁদের সন্তানদের বাড়িতে নিয়ে যায়। এ খবর মুহূর্তেই মুখে মুখে ছড়িয়ে পড়ে। শিক্ষার্থীরা দ্রুত ব্যাগ গুছিয়ে নিচে হলরুমে অভিভাবকদের অপেক্ষা করতে থাকে। এ সময় পাশের দিগন্ত থেকে ধোঁয়া উঠতে দেখা গেলে সবার ভেতর আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। শিক্ষকেরা দ্রুত সবাইকে চলে যেতে বলেন। তখনো অনেক শিক্ষার্থীই জানে না যে যুদ্ধ লেগে গেছে।

ওই দিন ছিল নবম শ্রেণির গণিত পরীক্ষা। পরীক্ষার মাঝেই গণিত শিক্ষক শিরিনের কাছে পৌঁছায় যুদ্ধ শুরুর খবর। শুরুতেই তিনি আতঙ্কিত হয়ে পড়েন যে এই ছোট ছোট শিশু যুদ্ধের ভেতর দিয়ে কীভাবে সুরক্ষিত থাকবে। তিনি নিজেও ছোটবেলায় এই স্কুলে পড়েছেন। এখন তাঁর দুই সন্তানের মধ্যে ৯ বছর বয়সী ইহাব চতুর্থ শ্রেণি ও ১১ বছর বয়সী মায়া ষষ্ঠ শ্রেণিতে এই স্কুলের শিক্ষার্থী।

শিরিন যখন হাইস্কুলে পড়েন, তখন দ্বিতীয় ইন্তিফাদা (গণ-অভ্যুত্থান, ২০০০-০৫) চলে। ২০০২ সালে তিনি মাধ্যমিক স্তরের (তাওজিহি) পরীক্ষা দেন। ফিলিস্তিনের হাইস্কুলের শেষ বছরটি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থান নির্ধারণ করে এমন একাধিক মানসম্মত পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য ব্যয় করেছিল। তাঁর পরীক্ষার সময় নেটিভিটি চার্চে ইসরায়েলি অবরোধ ছিল। সেখানে ২০০২ সালের ২ এপ্রিল থেকে ১০ মে পর্যন্ত দুই শতাধিক ফিলিস্তিনি সৈন্য আশ্রয় নিয়েছিলেন।

ওই বছর ইসরায়েলি বাহিনী যখন কারফিউ ঘোষণা করেছিল, সেদিনও শিরিন গণিত পরীক্ষা দিচ্ছিলেন। শিরিনের মনে আছে, সেদিন সৈন্যরা পরীক্ষাকক্ষে গিয়ে ‘মামনুআ আল-তাজাওল’ বলে পরীক্ষায় বাধা দিয়েছিলেন। কাউকে নড়াচড়া করতে দেওয়া হয়নি।

শিরিন বলেন, ‘সেদিন বাইরে যা–ই ঘটুক না কেন, শিক্ষকেরা আমাদের পরীক্ষা চালিয়ে যেতে বলেছিলেন। পরীক্ষা শেষ হওয়ার পরপরই কারফিউ চলাকালে বিশেষ অনুমতি নিয়ে একটি সরকারি গাড়ি শিক্ষার্থীদের বাড়িতে পৌঁছে দেয়। সেই বছর অনেক শিক্ষার্থী অবরোধের কারণে তাওজিহি পরীক্ষা স্থগিত করতে বাধ্য হয়েছিল।’

ইন্তিফাদা না হলে শিরিন পশ্চিম তীরের বিরজিত বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থাপত্যবিদ্যায় পড়াশোনা করতে পারতেন। কিন্তু তাঁর মা–বাবা তাঁকে বেশি দূরে যেতে দিতে চাননি। চেয়েছিলেন মেয়ে বাড়ির কাছাকাছি থাকুক। তাই তিনি বিরজিত বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি না হয়ে বেথলেহেম বিশ্ববিদ্যালয়ে গণিত বিষয়ে পড়াশোনা করেন। যুদ্ধ তাঁর জীবনের গতিপথ বদলে দিয়েছে। আর এবার তাঁর সন্তানেরা হয়তো প্রথমবারের মতো একই অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হচ্ছে।

গত শনিবার যুদ্ধের ঘটনা শুনে শিরিনের ছেলে ইহাব উত্তেজিত হয়ে পড়েছিল। সে ও তার বোন মায়া বিকট শব্দ শুনে আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। তবে ইহাব আশা করেছে, এর মধ্য দিয়ে হয়তো ফিলিস্তিন স্বাধীন হয়ে যাবে। কিন্তু শিরিন ছেলেকে জানিয়েছেন, স্বাধীনতা এখনো অনেক দূরে।

মায়া বলেছে, ‘স্কুল থেকে এক দিনের ছুটি পেয়ে খুশি হয়েছিলাম। কিন্তু অনেক উচ্চশব্দে সাইরেন ও বোমা বিস্ফোরণ হওয়ায় ভয় পেয়েছিলাম।’

এর আগে কোনো ধর্মঘট বা কারও হত্যার খবর পেয়ে ইহাব ও মায়াকে স্কুল থেকে বাড়ি পাঠানো হয়েছিল। এবারই প্রথম তাদের যুদ্ধের কারণে স্কুল থেকে বাড়ি পাঠানো হলো। তারা বাড়ি থেকে ভিডিও কলে বন্ধুদের সঙ্গে যুদ্ধ নিয়ে কথা বলেছে, আরও বিস্তারিত খবর জেনেছে। মায়া তার পড়াশোনার ওপর এই যুদ্ধের প্রভাবের কথা ভেবে বেশ উদ্বিগ্ন। কারণ, স্কুল বন্ধ থাকলে সে পড়াশোনা করতে পারে না। সে বলেছে, ‘শিক্ষিত হয়ে জ্ঞানের মাধ্যমে আমরা আমাদের দেশকে রক্ষা করতে পারি।’

শিরিনও তাঁর মেয়ের সঙ্গে একমত। তিনি বলেন, শিক্ষক হিসেবে কাজের মাধ্যমে তিনি এমন একটি প্রজন্ম তৈরি করার আশা করেন, যা একটি শক্তিশালী ফিলিস্তিন গড়ে তুলতে পারে। এটিই হবে তাঁদের প্রতিরক্ষার পদ্ধতি।

করোনা মহামারির পর যুদ্ধের কারণে স্কুলটি প্রথমবারের মতো আবারও অনলাইনে পাঠদানের পরিকল্পনা করছে। এ কারণে শিরিন বেশ উদ্বিগ্ন। তাঁর ধারণা, এতে আবারও শিক্ষার্থীরা মূল ধারণা এবং প্রয়োজনীয় যোগাযোগের দক্ষতা থেকে বঞ্চিত হবে।

শিরিন বলেন, ‘আমি চাই আমার সন্তানেরা, আমার শিক্ষার্থীরা স্বাভাবিক জীবন যাপন করুক। মানুষ সত্যিই ভয় পায়। আমরা বেথলেহেম ছাড়তে পারব না—আল-জিসর (অ্যালেনবি ব্রিজ) বন্ধ, বিমানবন্দর বন্ধ। সবকিছু বন্ধ হয়ে গেছে।’

শিরিন আরও বলেন, এখানকার অর্থনীতি পর্যটনের ওপর নির্ভরশীল। এ যুদ্ধের অর্থ হলো হাজারো পরিবার তাদের চাহিদা মেটাতে লড়াই করবে। মানুষ এর জন্য মোটেও প্রস্তুত নয়।’

প্রথম ইন্তিফাদার কথা স্মরণ করে শিরিন বলেন, ‘আমি তিন বছর বয়সে যা ছিলাম, তার মধ্য দিয়েই বেঁচে আছি।’ নিজে বলতে পারেন না বলে তিনি ফিলিস্তিনের জাতীয় কবি মাহমুদ দারবিশের ‘ফিলিস্তিন’ কবিতার কথা বলেছেন। তিনি বলেন, ‘শান্তির জন্য সৃষ্ট ভূমিতে শান্তি, তবু জীবনে শান্তির দেখা মেলেনি।’

ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘাত আজ মঙ্গলবার চতুর্থ দিনে গড়াল। গত শনিবার বিমান ও স্থলপথে ইসরায়েলের ওপর হামলা চালায় ফিলিস্তিনি গোষ্ঠী হামাস। এর পর থেকে লড়াই চলছেই। হামাসের অতর্কিত হামলায় হকচকিত ইসরায়েল পাল্টা হামলা চালিয়েছে। গতকাল সোমবার তারা গাজা উপত্যকায় অন্তত এক লাখ সৈন্যের সমাবেশ ঘটিয়েছে। ইসরায়েল গাজা উপত্যকায় বিমান হামলা বাড়িয়েছে এবং হামাস যোদ্ধাদের রক্তক্ষয়ী হামলার প্রতিশোধ হিসেবে গাজায় খাদ্য, জ্বালানি এবং অন্যান্য রসদ সরবরাহ বন্ধ করে দিয়েছে। যুদ্ধে উভয় পক্ষের মৃত মানুষের সংখ্যা প্রায় ১ হাজার ৬০০-তে এসে দাঁড়িয়েছে।

শ্রমবাজারে নারীর ভূমিকা নিয়ে গবেষণায় অর্থনীতিতে নোবেল পেলেন ক্লদিয়া গোল্ডিন


শ্রমবাজারে নারীর ভূমিকা নিয়ে গবেষণার জন্য চলতি বছর অর্থনীতিতে নোবেল পুরস্কার (যা অর্থনীতিতে নোবেল স্মারক পুরস্কার বা আলফ্রেড নোবেল স্মৃতি রক্ষার্থে অর্থনীতিতে ভেরিজ রিক্সবাঙ্ক পুরস্কার হিসেবে পরিচিত) পেয়েছেন অধ্যাপক ক্লদিয়া গোল্ডিন।

রয়েল সুইডিশ একাডেমি অব সায়েন্সেস ২০২৩ সালের নোবেল বিজয়ী হিসাবে সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের এই অধ্যাপকের নাম ঘোষণা করেছে।

নোবেল কমিটি এক বিবৃতিতে বলেছে, ক্লদিয়া গোল্ডিন ‘শতাব্দীজুড়ে নারীদের উপার্জন এবং শ্রমবাজারে অংশগ্রহণের প্রথম ব্যাপক বিবরণ প্রদান করেছেন। তার গবেষণা পরিবর্তনের কারণ, সেইসাথে বিদ্যমান লিঙ্গ ব্যবধানের মূল উৎস প্রকাশ করে।’

গাজায় ৯১ শিশুসহ নিহতের সংখ্যা ৫০০ ছুঁই ছুঁই


গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৪৯৩ জনে দাঁড়িয়েছে বলে সেখানকার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে। আহত ফিলিস্তিনিদের সংখ্যাও বেড়ে হয়েছে ২ হাজার ৭৫১। গাজার ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় আরো জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে ৯১ জন শিশু ও ৬১ জন নারী রয়েছে।

সংবাদ সংস্থা দ্য নিউ আরবও জানিয়েছে, ‘মোট মৃত্যুর মধ্যে ৯১ শিশু এবং ৬১ জন নারী ইসরায়েলি বিমান হামলায় নিহত হয়েছে।

এ ছাড়া ২৪৪ শিশু এবং ১৪১ জন নারীসহ ২ হাজার ৭৫১ ফিলিস্তিনি চলমান ইসরায়েলি বিমান হামলায় আহত হয়েছে।’

গাজা শহরের দক্ষিণে রাফাহ শহরে একই পরিবারের ১৯ ফিলিস্তিনিসহ ইসরায়েলি বিমান হামলায় আজ সোমবার কমপক্ষে ৩২ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে। 

দক্ষিণ গাজার খান ইউনিস শহরের একটি বাড়ি লক্ষ্য করে আরেকটি হামলায় ৫ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে। এ ছাড়া, উত্তর গাজার আল জাতার পাড়ায় একটি বাড়িতে আরেকটি বিমান হামলায় ৪ জন প্রাণ হারিয়েছেন।

আরো একটি ইসরায়েলি হামলায় মধ্য গাজায় ৩ জন নিহত হয়েছে। গাজা শহরের পশ্চিমে আল শাতি শরণার্থী শিবিরের একটি মসজিদে হামলায় এক নারী নিহত এবং বেশ কয়েকজন আহত হয়েছে।

ফিলিস্তিনি গোষ্ঠী হামাস পরিচালিত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান উত্তর গাজার বেইত লাহিয়াতে বেশ কয়েকটি বিমান হামলা চালিয়েছে। ইসরায়েলি সেনাবাহিনী বলেছে, তাদের বিমান হামাসকে ধ্বংস করতে গাজায় হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।

গৃহকর্মীদের সুরক্ষায় সৌদিতে নতুন আইন


নতুন নিয়মে সৌদিতে কাজ করতে গেলে কর্মীর সর্বনিম্ন বয়স ২১ বছর হতে হবে। সৌদি আরব চুক্তির অধিকার রক্ষা এবং দেশের শ্রমবাজারকে আকর্ষণীয় করতে গৃহকর্মী নিয়োগের জন্য নতুন নিয়ম করেছে। সৌদি আরবের অফিশিয়াল গেজেট উম-আল কুরাতে প্রকাশিত হয়েছে এই নিয়ম।

নতুন এই আইনের মধ্যে রয়েছে, নিয়োগকর্তা গৃহকর্মীর পাসপোর্ট, অন্যান্য ব্যক্তিগত নথি বা জিনিসপত্র রাখতে পারবেন না।

 কর্মীকে শারীরিক, মানসিক, বর্ণ, লিঙ্গ বা জাতিগত ভিত্তিতে কোনো ধরনের নির্যাতন করা যাবে না। নিয়োগকর্তা গৃহকর্মীকে তার পরিবার, দূতাবাস, মানবসম্পদ সংস্থা এবং উপযুক্ত সংস্থাগুলোর সঙ্গে যোগাযোগের অনুমতি দিতে বাধ্য থাকবে। চুক্তিতে অবশ্যই শ্রমিককে দেওয়া মজুরি, অর্থ প্রদানের পদ্ধতি, উভয়পক্ষের অধিকার এবং বাধ্যবাধকতা উল্লেখ করতে হবে।

অন্য কোনো গণনা পদ্ধতি উল্লেখ করা না হলে গৃহকর্মীর চুক্তির সব তারিখ গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার অনুসারে গণনা করা হবে।

বাড়ির কর্মীর দৈনিক কাজের সময় ১০ ঘণ্টা নির্ধারণ করা হয়েছে এবং সপ্তাহে ২৪ ঘণ্টা বিশ্রামের সময় পাবেন। এ ছাড়া নিয়োগকর্তা শ্রমিকের সব ফি বহন করবেন। এর মধ্যে রয়েছে- নিয়োগ, চাকরি পরিবর্তন, পরিষেবা স্থানান্তর, বাসস্থান, কাজের লাইসেন্স এবং প্রাসঙ্গিক জরিমানা-সম্পর্কিত ফি।  

নতুন আইনে, কর্মীর প্রশিক্ষণের সময়কাল ৯০ দিন।

এ ছাড়া দৈনিক কাজের সময়, সাপ্তাহিক ছুটি, ওভারটাইম, চুক্তির মেয়াদ, পুনর্নবীকরণ পদ্ধতি, সমাপ্তি ও বিমা উল্লেখ থাকতে হবে।

নিয়োগকর্তা উপযুক্ত আবাসন এবং খাবার দিতে বা পরিবর্তে ভাতা দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকবেন। এসবের বিনিময়ে কর্মী চুক্তি মোতাবেক কাজ করবেন। নিয়োগকর্তার সম্পত্তি সংরক্ষণ, নিয়োগকর্তা বা তার পরিবারের কোনো সদস্যকে শারীরিক বা মৌখিকভাবে আক্রমণ করা যাবে না। পাশাপাশি তাদের গোপনীয়তা রক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকবেন।

চুক্তির সময় কর্মচারী আত্মকর্মসংস্থান বা অন্যর কাজ করতে পারবে না। ইসলামকে সম্মান করবে এবং সৌদি সমাজের ঐতিহ্যের মেনে চলতে বাধ্য থাকবে। 

নতুন আইনে আরো বলা হয়েছে, কর্মীর বকেয়া পাওনা তার প্রথম উত্তরাধিকারেরা পাবেন। নিয়োগকর্তা এবং শ্রমিকের মধ্যে চুক্তির বিধানগুলো সৌদি আরবের মানবসম্পদ মন্ত্রণালয়ের নিয়মে হবে। চুক্তির একটি নির্দিষ্ট মেয়াদসহ আরবিতে লেখা চুক্তিনামাটি অনুমোদিত হতে হবে। আবার কর্মীর বোঝার জন্য তার দেশের সরকারি ভাষায় অনুবাদ করতে হবে। এটা না থাকলে শ্রমিকের কাজে যোগদানের তারিখ থেকে এক বছরের মধ্যে এটি নবায়নযোগ্য বলে বিবেচিত হবে।

চুক্তিতে শ্রমিকের জন্য কাজের বিবরণ, নাম, জাতীয়তা, বাসস্থান, চুক্তিতে উভয়পক্ষের যোগাযোগের ঠিকানা, নিয়োগকর্তার অফিশিয়াল ঠিকানা, চুক্তি স্বাক্ষরের তারিখ এবং এর বৈধতাসহ প্রয়োজনীয় সব উপাদানকে অন্তর্ভুক্ত করেছে।

Blogger দ্বারা পরিচালিত.