Header Ads

Header ADS
লাইফস্টাইল লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
লাইফস্টাইল লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

এলপি গ্যাসের নতুন দাম নির্ধারণ আজ


 চলতি মাসে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) মূল্য বাড়ছে নাকি কমছে, তা জানা যাবে আজ (রোববার)। এদিন এক মাসের জন্য এলপিজির নতুন দাম ঘোষণা করা হবে।

শনিবার (৩ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) সচিব ব্যারিস্টার মো. খলিলুর রহমান খান গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, সৌদি আরামকো ঘোষিত ফেব্রুয়ারি ২০২৪ মাসের সৌদি সিপি অনুযায়ী এই মাসের জন্য ভোক্তাপর্যায়ে বেসরকারি এলপিজির মূল্য সমন্বয় সম্পর্কে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের নির্দেশনা রোববার দুপুর আড়াইটায় ঘোষণা করা হবে।

এর আগে গত ২ জানুয়ারি টানা ৬ষ্ঠ মাসের মতো ভোক্তা পর্যায়ে বাড়ানো হয় এলপিজির দাম। ডিসেম্বরের তুলনায় জানুয়ারি মাসে ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ২৯ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৪৩৩ টাকা নির্ধারণ করা হয়।

একইসঙ্গে অটোগ্যাসের দামও বাড়ায় বিইআরসি। জানুয়ারি মাসে ভোক্তা পর্যায়ে অটোগ্যাসের মূসকসহ দাম প্রতি লিটার নির্ধারণ করা হয় ৬৫ টাকা ৬৭ পয়সা।


বিদ্যুতের দেনা শোধ করতে বিশেষ বন্ড ছাড়বে অর্থ মন্ত্রণালয়


 বিদ্যুতের দেনা পরিশোধ করতে বিশেষ বন্ড ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়। গতকাল বুধবার সচিবালয়ে সরকারের সঙ্গে বেসরকারি সিটি ব্যাংক ও পূবালী ব্যাংকের মোট ২ হাজার ৬২ কোটি টাকার বিশেষ বন্ড ছাড়ার বহুপক্ষীয় চুক্তি হয়েছে। এর মধ্যে সিটি ব্যাংকের অনুকূলে ১ হাজার ৯৮৫ কোটি টাকা এবং পূবালী ব্যাংকের অনুকূলে ৭৭ কোটি ৫০ লাখ টাকা।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। এর আগে সারের ভর্তুকি মেটাতে বিশেষ বন্ড ছেড়ে ৩ হাজার ১৬ কোটি টাকা পরিশোধ করেছিল সরকার।

সূত্র জানায়, বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোকে ভর্তুকির টাকা দিতে পারছিল না সরকার। সে কারণে কেন্দ্রগুলোও ব্যাংকের পাওনা পরিশোধ করতে পারছিল না। এতে কোনো কোনো বিদ্যুৎকেন্দ্র ঋণখেলাপিও হয়ে পড়ছিল।

এ অবস্থায় পুরো পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিশেষ বন্ড ছাড়ার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। বন্ডের কুপন রেট বা সুদহার নির্ধারণ করা হয়েছে ৮ শতাংশ। এ হার বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্ধারণ করা রেপো রেটের সমান। তবে ভবিষ্যতে রেপো রেট বাড়লে এ বন্ডের সুদহারও বাড়বে, রেপোর সুদ কমলে বিশেষ বন্ডের

সুদও কমবে।

জানা গেছে, বন্ড ছাড়ার ফলে সিটি ব্যাংক ও পূবালী ব্যাংক এখন আর দেনাদারদের কাছে টাকা চাইতে পারবে না। বন্ডের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যাংকের দায় সমন্বয় হয়ে যাবে। আর ব্যাংক সুদ পাবে ছয় মাস পরপর। মেয়াদ শেষে সুদসহ ব্যাংকের পাওনা সরকার পরিশোধ করবে। তখন বন্ডগুলোও সরকার ফেরত নেবে। সাধারণত বন্ড ১৫ থেকে ২০ বছর মেয়াদি হলেও বিশেষ বন্ডের মেয়াদ হচ্ছে সর্বোচ্চ ১০ বছর।

বিদ্যুৎ খাতে বিশেষ বন্ড ছাড়া হয়েছে যেসব প্রতিষ্ঠানের দায় মেটাতে, সেগুলো হচ্ছে সামিট পাওয়ার, ইউনাইটেড পাওয়ার, কনফিডেন্স পাওয়ার, বারাকা, কুশিয়ারা, ডরিন, অ্যাক্রন পাওয়ারের বিপরীতে। ধাপে ধাপে আরও কয়েকটি ব্যাংকের সঙ্গে বিদ্যুতের দায় মেটাতে বিশেষ বন্ড ছাড়ার চুক্তি হবে বলে অর্থ বিভাগের সূত্রগুলো জানায়। পরের দফায় চুক্তি হতে পারে ব্র্যাক ব্যাংক ও ব্যাংক এশিয়ার সঙ্গে।

জানা গেছে, সরকারের কাছে দেশের সরকারি ও বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকার বিল বকেয়া রয়েছে। এর মধ্যে বেসরকারি খাতের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর (আইপিপি) বকেয়া ২০ হাজার কোটি টাকার বেশি। তবে বিশেষ বন্ড ছাড়া হচ্ছে ১৩ হাজার কোটি টাকার মতো।

বাণিজ্যমেলার মূল উদ্দেশ্য গার্মেন্টসের ওপর নির্ভরতা কমানো: বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী

 


বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী আহসানুল ইসলাম টিটু জানিয়েছেন, তিনি রপ্তানি বহুমুখী করে বাণিজ্য বাড়াতে চান। ঢাকা বাণিজ্যমেলার মূল উদ্দেশ্য গার্মেন্টসের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে রপ্তানিকে বহুমুখী করা বলেও জানান তিনি।

শনিবার বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টারে (বিবিসিএফইসি) ২৮তম ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা উপলক্ষ্যে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, এই মেলার মূল উদ্দেশ্য গার্মেন্টসের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে রপ্তানিকে কিভাবে বহুমুখী করা যায়। চেষ্টা করব লোকাল যে শিল্প আছে সেগুলোকে আরও উৎসাহিত করতে। আমাদের রপ্তানি ৬ গুন বেড়েছে।

আহসানুল ইসলাম টিটু আরও বলেন, আমরা বেশি উৎসাহিত করে বিদেশিদের আনি না। কারণ মাসব্যাপী তারা অনেকে আসতে চান না। তবে আমাদের লোকাল ইন্ড্রাস্ট্রিগুলোকে পরিচিত করাটাই অন্যতম লক্ষ্য। ভোক্তা অধিদপ্তরকে নির্দেশনা দেবো মেলায় আগত দর্শনার্থীরা যেন প্রতারিত না হয়। আমাদের দেশে বিভিন্ন দেশের দূতাবাসের লোকজন আছে, তাদের অনেকে আসে। এবার আমরা তাদের একসঙ্গে আনার বিষয়ে উদ্যোগ নেবো।

এ সময় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব তপন কান্তি ঘোষ বলেন, গত দুই বছর রাস্তার কিছুটা সমস্যা ছিলো। এবার রাস্তা অনেক ভালো, ফলে অনেক দর্শনার্থী আসবে বলে আশা করছি। চেষ্টা করেছি একটি ভালো মেলা আয়োজনের জন্য। প্রতিবছর পহেলা জানুয়ারি মেলার আয়োজন করলেও এবার নির্বাচনের কারণে কিছুটা পিছিয়েছে। এ মেলাটি মানুষের জন্য বার্ষিক একটা ঐতিহ্যবাহী মেলায় পরিণত হয়েছে।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) ভাইস চেয়ারম্যান এ.এইচ.এম আহসান বলেন, মেলাকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তার বিষয় থাকে। সেজন্য ৫০ জনের আউটসোর্সিং করে নিরাপত্তার জন্য লোকবল নিয়োগ দিয়েছি। এছাড়াও পুলিশ-আনসার থাকবে। প্রয়োজনে স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসাবে র্যাব কাজ করবে। পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতার জন্য ১০০ জন ক্লিনার নিয়োগ করা হয়েছে। যাতায়াতের জন্য বিআরটিসির সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। তাদের বাস থাকবে। এবার ফার্মগেইট থেকেও বাসে উঠা যাবে। ফলে খুব অল্প সময় মেলা কেন্দ্রে আসা যাবে।

ইপিবি সূত্রে জানা গেছে, এবারের বাণিজ্যমেলায় দেশীয় পণ্যের পাশাপাশি ভারত, পাকিস্তান, থাইল্যান্ড, তুরস্ক, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, হংকং, সিঙ্গাপুর, নেপালসহ বিভিন্ন দেশ অংশ নেবে। পণ্য প্রদর্শনের পাশাপাশি দেশীয় পণ্য রপ্তানির বড় বাজার খোঁজার লক্ষ্য রয়েছে।

জানা গেছে, দেশীয় বস্ত্র, মেশিনারিজ, কার্পেট, কসমেটিকস অ্যান্ড বিউটি এইডস, ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিকস, পাট ও পাটজাত পণ্য, গৃহ সামগ্রী, চামড়া ও জুতাসহ চামড়াজাত পণ্য, স্পোর্টস গুডস, স্যানিটারিওয়্যার, খেলনা, স্টেশনারি, ক্রোকারিজ, প্লাস্টিক, মেলামাইন পলিমার, হারবাল ও টয়লেট্রিজ, ইমিটেশন জুয়েলারি, প্রক্রিয়াজাত খাদ্য, ফাস্টফুড, হস্তশিল্পজাত পণ্য, হোম ডেকর, ফার্নিচার ইত্যাদি পণ্য মেলায় প্রদর্শিত হতে যাচ্ছে।

স্বপ্নের রেল কক্সবাজারে

 


পৃথিবীর দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকত কক্সবাজার। পর্যটন শহর হওয়ায় পর্যটকের ভিড় থাকে সারা বছরই। এ শহরে যাতায়াতের একমাত্র মাধ্যম চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক। কিন্তু দেশের অন্যতম বৃহত্তম এ সড়কটি সরু দুই লেনের। সঙ্গে যোগ হয় সড়কের ওপর থাকা বাজারের ব্যস্ততা। ফলে প্রতিনিয়তই লেগে থাকে যানজট। নষ্ট হয় সময়, অর্থ ও জ্বালানি। কিন্তু এবার এসব সমস্যা, দুর্ভোগ ও ভোগান্তি দূর হচ্ছে। স্বপ্নের রেল যাবে কক্সবাজারে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ শনিবার এ রেলপথের উদ্বোধন করবেন

আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজীকরণে পর্যটন নগরীর সঙ্গে রাজধানীসহ সারা দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের দাবি বহুদিনের। এরই পরিপ্রেক্ষিতে বর্তমান সরকার কক্সবাজার বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে উন্নীত করার পাশাপাশি স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ের দাবি দোহাজারী-কক্সবাজার রেললাইন সম্প্রসারণ প্রকল্প হাতে নেয়।

Advertisement: 0:08

গুরুত্ব বিবেচনায় ২০১১ সালের ৩ এপ্রিল দোহাজারী-রামু-কক্সবাজার ও রামু-ঘুমধুম পর্যন্ত রেলপথ নির্মাণকাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

পৃথিবীর দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকত কক্সবাজার। কক্সবাজার পর্যটন শহরও। পর্যটকের ভিড় থাকে সারা বছরই। এ শহরে যাতায়াতের একমাত্র মাধ্যম চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক। কিন্তু দেশের অন্যতম বৃহত্তম এ সড়কটি সরু দুই লেনের। সঙ্গে যোগ হয় সড়কের ওপর থাকা বাজারের ব্যস্ততা। ফলে প্রতিনিয়তই লেগে থাকে যানজট। দুর্ভোগে পড়তে হয় যাত্রীদের। ৫ ঘণ্টার যাত্রায় লেগে যায় ৭ ঘণ্টা। নষ্ট হয় সময়, অর্থ ও জ্বালানি। দেশের একপ্রান্ত পঞ্চগড় থেকে অন্যপ্রান্তে কক্সবাজারে রেললাইন চালু হয়েছে। এটিও সরকারের অন্যতম একটা সাফল্য বলছেন সংশ্লিষ্টরা।

কিন্তু এবার এসব সমস্যা, দুর্ভোগ ও ভোগান্তি দূর হচ্ছে। বহুল কাঙ্ক্ষিত ও প্রতীক্ষিত রেললাইন চালু হচ্ছে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার। স্বপ্নের রেল যাবে কক্সবাজারে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ শনিবার আনুষ্ঠানিকভাবে রেললাইনের উদ্বোধন করবেন। এর আগে প্রথমবারের মতো গত ৪ নভেম্বর ইঞ্জিন রেল এবং ৫ নভেম্বর ইঞ্জিন, বগিসহ আটটি কোচ নিয়ে কক্সবাজার যায় রেলওয়ে পরিদর্শন অধিদপ্তরের একটি বিশেষজ্ঞ দল।

এর মাধ্যমে দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে তৈরি হলো রেল যোগাযোগ। দেশি-বিদেশি পর্যটকরা স্বাচ্ছন্দ্যে যাতায়াত করতে পারবেন রেলপথে। দেশের ৪৫তম জেলায় যুক্ত হবে রেল। রাজধানী ঢাকার সঙ্গেও যুক্ত হলো সরাসরি রেল যোগাযোগ। দেশের পর্যটন খাত এগিয়ে যাবে আরেক ধাপ। দৈনিক যাতায়াত করতে পারবে প্রায় ১ লাখ মানুষ। কক্সবাজার সদরের ঝিলংজা ইউনিয়নের চান্দের পাড়ায় নির্মিত হয়েছে দেশের প্রথম ঝিনুক আকৃতির আইকনিক স্টেশন।

দোহাজারী-কক্সবাজার রেললাইন প্রকল্পের পরিচালক প্রকৌশলী মোহাম্মদ সুবক্তগীন বলেন, কক্সবাজার রেললাইন যাত্রা যোগাযোগে এটি একটি মাইলফলক উদ্যোগ, সরকারের যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত। এ রেলের মাধ্যমে ঢাকা থেকে ৭ ঘণ্টা ও চট্টগ্রাম থেকে ২ ঘণ্টায় কক্সবাজার যাওয়া যাবে। দেশি-বিদেশি পর্যটকদের জন্য যোগাযোগে তৈরি হবে অবারিত সুযোগ। তৈরি হলো পর্যটক ও স্থানীয় জনগণের জন্য নিরাপদ, আরামদায়ক ও সাশ্রয়ী যোগাযোগ ব্যবস্থা।

রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের জেনারেল ম্যানেজার নাজমুল ইসলাম বলেন, ইঞ্জিন ট্রায়াল, আটটি কোচ নিয়ে রেলওয়ে পরিদর্শন পরিদপ্তর দলের পরিদর্শন শেষে আজ ১১ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রী রেললাইনটি উদ্বোধন করছেন। এর মাধ্যমে দেশের ৪৫তম জেলায় রেল যুক্ত হল। দেশের রেলের ইতিহাসে এটি এক নতুন মাত্রা যোগ করল। আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের পর আগামী ২০ বা ২৫ নভেম্বর থেকে বাণিজ্যিকভাবে রেল চলাচল শুরু হবে।

প্রকল্প সূত্রে জানা যায়, দোহাজারী-কক্সবাজার রেললাইনটি ১৮ হাজার ৩৪ কোটি ৪৮ লাখ টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। প্রকল্পটি ২০১০ সালের ৬ জুলাই একনেকে অনুমোদন পায়। পরে ২০১১ সালের ৩ এপ্রিল দোহাজারী-রামু-কক্সবাজার এবং রামু-ঘুমধুম পর্যন্ত মিটারগেজ রেলপথ নির্মাণ কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দোহাজারী থেকে রামু পর্যন্ত ৮৮ কিলোমিটার রেলপথ নির্মাণ করা হয়। প্রকল্পের অধীনে কক্সবাজারে নির্মিত হয়েছে ঝিনুকের আদলে দেশের প্রথম অত্যাধুনিক আইকনিক রেলওয়ে স্টেশন। প্রকল্পে ঋণ সহায়তা দিচ্ছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। রেলপথটি নির্মিত হলে মিয়ানমার, চীনসহ ট্রান্স এশিয়ান রেলওয়ের করিডোরে যুক্ত হবে বাংলাদেশ।

জানা যায়, চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজারের দূরত্ব ১৫০ কিলোমিটার। দোহাজারী থেকে কক্সবাজারের দূরত্ব ১০০ কিলোমিটার। বর্তমানে দোহাজারী পর্যন্ত রেললাইন আছে। এ কারণে দোহাজারী থেকে রামু হয়ে বন, পাহাড় ও নদী পাড়ি দিয়ে রেলপথটি যাচ্ছে কক্সবাজারে। দোহাজারী, সাতকানিয়া, লোহাগাড়া, হারবাং, চকরিয়া, ডুলাহাজরা, ইসলামাবাদ, রামু ও কক্সবাজারে হয়েছে ৯টি স্টেশন। এসব স্টেশনে থাকবে কম্পিউটার বেইজড ইন্টারলক সিগন্যাল সিস্টেম এবং ডিজিটাল টেলিকমিউনিকেশন সিস্টেম। সাঙ্গু, মাতামুহুরী ও বাঁকখালী নদীর ওপর নির্মাণ হচ্ছে তিনটি বড় সেতু। এ ছাড়া পুরো রেলপথে নির্মিত হচ্ছে ৪৩টি ছোট সেতু, ২০১টি কালভার্ট এবং ১৪৪টি লেভেল ক্রসিং।

নির্মিত রেললাইন দিয়ে সহজ ও কম খরচে মাছ, লবণ, কাগজের কাঁচামাল, বনজ এবং কৃষিজ দ্রব্যাদি পরিবহন করা যাবে। এ ছাড়া মাছ, লবণ, শুঁটকিসহ নানা পণ্য কক্সবাজার থেকে দেশের অন্যান্য স্থানে পরিবহনের জন্য থাকবে বিশেষ রেফ্রিজারেটেড ওয়াগন সার্ভিস। একই সঙ্গে প্রকল্প নির্মাণে হাতি ও অন্যান্য বন্যপ্রাণীর নির্বিঘ্নে চলাচলের ব্যবস্থাও করা হচ্ছে। এ রেলপথে হাতি চলাচলে একটি ৫০ মিটার দীর্ঘ ওভারপাস ও তিনটি আন্ডারপাস নির্মাণ করা হয়েছে। কক্সবাজার সদরের ঝিলংজা ইউনিয়নের চান্দের পাড়ায় নির্মিত হয়েছে দেশের প্রথম ঝিনুক আকৃতির আইকনিক স্টেশন। আধুনিক এ স্টেশনে যাত্রীদের জন্য আছে সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা। আছে থাকার ব্যবস্থা, ওয়েটিং রুম, এক্সক্যাভেটরসহ আনুষঙ্গিক সুবিধা।

দেশের প্রথম ঝিনুক আকৃতি আইকনিক স্টেশন: দোহাজারী কক্সবাজার রেললাইনের মূল স্টেশনটি কক্সবাজারে। এটি দেখতে ঝিনুক আকৃতির মতোই। কক্সবাজারের সৈকত থেকে ৩ কিলোমিটার দূরে ঝিলংঝা ইউনিয়নের চান্দের পাড়ায় ২৯ একর জমির ওপর ১ লাখ ৮৭ হাজার ৩৭ বর্গফুটের। ভবনটি হবে ছয়তলা। প্রথম দেখায় বোঝার উপায় নেই এটি কি। দোহাজারী-কক্সবাজার রেললাইন প্রকল্পে সবচেয়ে বড় আধুনিক আইকনিক ঝিনুকের আদলে তৈরি হওয়া ছয়তলা এ স্টেশন। এ স্টেশনের মাধ্যমে তুলে ধরা হয়েছে পর্যটন নগরী কক্সবাজারের সৌন্দর্য।

পর্যটকরা লাগেজ স্টেশনে রেখে সারা দিন সমুদ্রসৈকত এবং দর্শনীয় স্থানগুলো ঘুরে রাতের ট্রেনে আবার ফিরতে পারবেন নিজ গন্তব্যে। এ ছাড়া ভবনটিতে থাকবে প্যাসেঞ্জার লাউঞ্জ, শপিংমল, রেস্তোরাঁ, তারকামানের হোটেল-রেস্তোরাঁ ও কনফারেন্স হল। স্টেশনটির দ্বিতীয়তলার ফুট ওভারব্রিজ ব্যবহার করে যাত্রীরা উঠবেন ট্রেনে। ছয়তলা স্টেশন ভবনে যাত্রীদের ওয়েটিং রুম, লকার সুবিধা, শিশু যত্ন কেন্দ্র, খেলার জায়গা, মিলনায়তনসহ আধুনিক সব সুবিধা রয়েছে।

ক্ষতিকর লবণ থেকে দূরে থাকুন


অতিরিক্ত লবণ খেলে রক্তনালিতে পানি জমে যেতে পারে।

কেন বেশি বেশি লবণ খাওয়া ভালো নয়

খাওয়ার সময় অনেকে পাতে আলাদা লবণ নিয়ে থাকেন, কেউ আবার সামনে রাখেন সল্ট শেকার। খাবার যা-ই নেন না কেন, পাতে ঝেড়ে নেন লবণ। অথচ কমবেশি সবাই জানে, এই লবণ ক্ষতি করে রক্তচাপের।

কিডনি রক্ত থেকে বাড়তি পানি বের করে দিয়ে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। লবণে আছে সোডিয়াম। রক্তে বেশি সোডিয়াম থাকলে বেশি পানি টেনে নেয় রক্ত। রক্তনালিতে বেশি লবণ মানে রক্তে পানির পরিমাণ বেশি। এ জন্য রক্তচাপ বেড়ে যায়। রক্তে চাপ বেশি থাকলে কালক্রমে রক্তনালিদের করতে হয় কঠোর পরিশ্রম। একে মোকাবিলা করতে গিয়ে রক্তনালির দেয়াল হয় পুরু। ফলে তার ভেতরের পরিসর কমে যায়। সে জন্য রক্ত চাপ আরও বেড়ে যায়। বিভিন্ন দেহযন্ত্রে যায় কম রক্ত। অথচ এই রক্ত-ই অক্সিজেন আর অন্য পুষ্টি উপকরণ বয়ে নিয়ে যায় দেহের বিভিন্ন জায়গায়। রক্ত যখন কম যায়, তখন হার্টে ব্যথা হয়। এ অবস্থায় হার্ট অ্যাটাক হওয়াও বিচিত্র নয়। কম রক্ত মগজে গেলে ঘটাতে পারে স্ট্রোক। দেখা গেছে, হার্ট অ্যাটাক আর স্ট্রোকের অর্ধেকের জন্য দায়ী উচ্চ রক্তচাপ।

প্রাপ্তবয়স্ক আর ১১ বছরের বেশি বয়সের শিশুদের দিনে ৫-৬ গ্রামের বেশি লবণ খাওয়া উচিত নয়। সাধারণত ৬ গ্রাম লবণ এক চা-চামচ পরিমাণ হয়ে থাকে। আর তাতে থাকে ২.৪ গ্রাম সোডিয়াম। শিশুদের লবণ খেতে হবে আরও কম। আমরা যে খাবার খাই, তার তিন-চতুর্থাংশ রেডিমেড খাবার। সেগুলো হতে পারে রুটি, সকালের নাশতা, সিরিল ইত্যাদি। এ অবস্থায় কী করবেন?

■    খাবার পরীক্ষা করে দেখুন, তাতে লবণ কম কি না। 

■    রান্নার সময় লবণ দেবেন না। দিন লতাগুল্মের ফ্লেভার, গোলমরিচ, মসলা ও লেবুর রস। 

■    কোনোভাবেই খাবার পাতে লবণ নেবেন না। 

■    টেবিলে সল্ট শেকার রাখবেন না।

■    সস বা আচার খাবেন না। এমনকি রান্নাতেও দেবেন না। 

■    টেক অ্যাওয়ে বা ফাস্ট ফুড রেস্তোরাঁয় যাবেন না। 

■    নতুন ফ্লেভারে জিব অভ্যস্ত হলে খাবারে আর লবণ যোগ করতে হবে না।

অধ্যাপক ডা. শুভাগত চৌধুরী, সাবেক অধ্যক্ষ, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল

দেশে প্রতি তিনজনে একজন আর্থ্রাইটিসে ভোগেন


দেশে প্রতি তিনজনে একজন বাত রোগ বা আর্থ্রাইটিসে ভোগেন। এ ছাড়া শিশুদের মধ্যেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মাংসপেশি, হাড় ও অস্থিসন্ধির রোগে আক্রান্ত। এ কারণে দেশের প্রতিটি সরকারি হাসপাতালে রিউমাটোলোজি বিভাগ খোলার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) আয়োজিত ‘জয়েন্ট পেইন’ বিষয়ক মাসিক সেন্ট্রাল সেমিনারে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়। আজ রোববার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘এ’ ব্লক মিলনায়তনে বিএসএমএমইউয়ের সেন্ট্রাল সেমিনার সাবকমিটি এই সেমিনারের আয়োজন করে। 

সেমিনারে অস্থিসন্ধির ব্যথাবিষয়ক তিনটি প্রবন্ধ উপস্থাপন করা হয়।

ফিজিক্যাল মেডিসিন অ্যান্ড রিহ্যাবিলিটেশন বিভাগের অধ্যাপক ডা. সৈয়দ মোজাফফর আহমেদ ‘ফিজিয়াট্রিক ম্যানেজমেন্ট অব জয়েন্ট পেইন’, শিশু বিভাগের চেয়ারম্যান ও শিশু রিউমাটোলোজি ডিভিশনের প্রধান ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিন অধ্যাপক ডা. মানিক কুমার তালুকদার ‘অ্যাপ্রোচ টু দ্য পেডিয়াট্রিক পেশেন্টস প্রেজেন্টিং উইথ জয়েন্ট পেইন’ এবং রিউমাটোলোজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. মেজর (অব.) সৈয়দ জামিল আব্দাল ‘অ্যাপ্রোচ টু দ্য অ্যাডাল্ট পেশেন্টস প্রেজেন্টিং উইথ জয়েন্ট পেইন’ প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। 

সেমিনারে বক্তারা বলেন, দেশের প্রতিটি সরকারি হাসপাতালে রিউমাটোলোজি বিভাগ খোলা উচিত। বাংলাদেশে বাত রোগের চিকিৎসক বা রিউমাটোলোজিস্টের সংখ্যা খুবই কম। দেশে এই বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়া অন্য কোথাও রিউমাটোলোজিতে উচ্চতর শিক্ষা নেওয়ার (এমডি) সুযোগ নেই। তাই সরকারি বড় বড় চিকিৎসা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এই কোর্স চালু করা প্রয়োজন। 

সেমিনারে জানানো হয়, শতকরা ১০ থেকে ২০ ভাগ শিশু বিভিন্ন ধরনের মাংসপেশি, হাড় ও অস্থিসন্ধির রোগে আক্রান্ত। শিশুদের এই সমস্যাগুলো ক্রমে বেড়েই চলেছে। 

এর লক্ষণগুলোর মধ্য রয়েছে—অস্থিসন্ধি নাড়াতে না পারা, নাড়ানোর সময় ব্যথা অনুভূত হওয়া, অস্থিসন্ধি গরম হয়ে যাওয়া। এ রোগ হলে রোগীদের ব্যবস্থাপনায় বয়স, লিঙ্গ, রোগভোগের কাল, ব্যথার ধরন, গিরা জমে যাওয়া এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় ইতিহাস নেওয়া প্রয়োজন। 

এ ছাড়া চিকিৎসার ক্ষেত্রে রোগটি প্রদাহজনিত কি না, তা সুস্পষ্টরূপে নির্ধারণ করা, সম–অসম প্রদাহ কি না, অস্থিসন্ধির বিকৃতি, অস্থিসন্ধি ব্যতীত অন্য অঙ্গপ্রত্যঙ্গ আক্রান্ত হওয়ার প্রবণতা ও আক্রান্ত অস্থিসন্ধির সংখ্যা অনুযায়ী রোগ নির্ণয় করা হয়ে থাকে বলে সেমিনারে জানানো হয়। 

এ রোগ হলে অস্থিসন্ধি প্রদাহের ৮০ শতাংশ রোগ নির্ণয় হয়ে থাকে রোগের ইতিহাস থেকে, ১৫ শতাংশ শারীরিক লক্ষণ এবং মাত্র ৫ শতাংশ বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে। 

অস্থিসন্ধির প্রদাহ বলতে বোঝায় ফুলে যাওয়া, তরল পদার্থ নিঃসরণজনিত অবস্থা। অস্থিসন্ধি বা হাড়ের গিরায় ব্যথা, গায়ে ব্যথা, মাংসে ব্যথা ইত্যাদি আর্থ্রাইটিসের প্রধান লক্ষণ। তবে এই রোগ শরীরের প্রায় সব অঙ্গপ্রত্যঙ্গকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। শতকরা ৫ দশমিক ৫ জন বাতজনিত রোগের কারণে কর্মক্ষমতা হারান। পুরুষের চেয়ে নারীরা বেশি বাত রোগে ভোগেন। শহরের চেয়ে গ্রামের লোকজন বেশি বাতজনিত রোগে ভোগেন। তাই দ্রুত রোগ নির্ণয় এবং চিকিৎসা নিলে কার্যক্ষমতা হারানো থেকে মুক্ত হওয়া যায় বলে জানান বক্তারা। 

সেন্ট্রাল সাবকমিটির চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. বেলায়েত হোসেন সিদ্দিকী সভাপতিত্বে সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. শারফুদ্দিন আহমেদ। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) অধ্যাপক ডা. এ কে এম মোশাররফ হোসেন, উপ-উপাচার্য (গবেষণা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. মো. মনিরুজ্জামান খান।

৫ ধরনের জুতা পরে বিমান ভ্রমণ করবেন না


বাণিজ্যিক ফ্লাইটের যাত্রা প্রথম যখন শুরু হয়েছিল, তখন যাত্রীদের মধ্যে স্যুট বা এ ধরনের আকর্ষণীয় পোশাক পরার রীতি ছিল। কিন্তু বর্তমান সময়ে ভ্রমণকারীদের পোশাক-আশাকের চিত্রটা সম্পূর্ণ বিপরীত। এখন যাত্রীদের মধ্যে আরামদায়ক পোশাক জনপ্রিয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান সময়ের এই ট্রেন্ড হয়তো কম আকর্ষণীয় কিন্তু এই পরিবর্তনটি সবচেয়ে ভালো- বিশেষ করে যখন জুতার প্রসঙ্গ আসে। 

পডিয়াট্রিস্টদের (পা ও গোড়ালি বিশেষজ্ঞ) মতে, স্বাস্থ্য ও সুরক্ষা বিবেচনায় বিমান ভ্রমণে ৫ ধরনের জুতা কখনোই পরা উচিত নয়।

হাই হিল: বিমান ভ্রমণে নারীদের হাই হিল জুতা পরা নিয়ে একটা সময় খুব বেশি মাথা ঘামানো হতো না। কিন্তু বর্তমান সময়ে বিশেষজ্ঞরা এ ধরনের জুতা পরে বিমান ভ্রমণে সতর্ক করছেন। যুক্তরাষ্ট্রের একজন অর্থোপেডিক সার্জন এবং হাইপার আর্চ মোশনের সিনিয়র প্রজেক্ট ম্যানেজার মৌরিসিও গার্সিয়া জানান, হাই হিল পরার কারণে অনেকসময় রক্ত সঞ্চালন ব্যাহত হয়, ফলে পায়ের আঙুল ফুলে জুতা টাইট হয়ে যায়। গেইট থেকে বিমান পর্যন্ত পৌছাঁতে অনেক পথ হাঁটার প্রয়োজন পড়ে, ফলে এ ধরনের জুতা অস্বস্তিকর মুহূর্ত তৈরি করতে পারে।

দ্য স্কোটেনস্টাইন সেন্টারের পডিয়াট্রিস্ট জুলিয়া স্কোটেনস্টাইন জানান, হাই হিল জুতা অস্বস্তিকর হওয়ার পাশাপাশি জরুরি পরিস্থিতিতে সুরক্ষা ঝুঁকিও তৈরি করতে পারে। জরুরি প্রয়োজনে দৌড়াতে হলে হিল জুতা পায়ে থাকলে বিপদ।

আন্তর্জাতিক একটি বিমানের পাইলট ও ‘বিহাইন্ড দ্য ফ্লাইট ডেক ডোর’ বইয়ের লেখক ব্রেট ম্যান্ডারসের মতে, বিমান জরুরি অবতরণের সময় হাই হিল জুতা ব্যবহারকারীকে বিপদে ফেলতে পারে।  

টাইট কিংবা পয়েন্টেড টো জুতা: অর্থোপেডিক সার্জন মৌরিসিও গার্সিয়ার মতে, দীর্ঘ বিমানযাত্রায় টাইট বা পায়ের আঙুল চেপে থাকে এমন জুতা পরা উচিত নয়। কেননা এতে রক্তপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়ে পা ফুলে যেতে পারে। 

নতুন জুতা: বিমান ভ্রমণে নতুন জুতা পরা আরেকটি কমন ভুল, যা বেশিরভাগ মানুষজন করে থাকে। এ প্রসঙ্গে মৌরিসিও গার্সিয়া বলেন, ‘বিমান ভ্রমণে নতুন জুতা পরা ঝুঁকিপূর্ণ, কারণ আপনি জানেন না যে, এটি কখন আপনার পায়ে ফোস্কা ফেলে দিবে। বিশেষ করে, যদি ফ্লাইট ধরতে আপনাকে তাড়াহুড়া করে হাঁটতে হয়।’

নতুন জুতার পরিবর্তে পুরোনো পছন্দের জুতা পরার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। এতে পায়ে ফোস্কা পরার ঝুঁকি থাকবে না। এ প্রসঙ্গে মৌরিসিও গার্সিয়া বলেন, ‘পরিচিত সেই জুতাটি পরুন, যেটি ভ্রমণ জুড়ে আপনাকে আরামদায়ক এবং নিরাপদ রাখবে বলে আপনার জানা রয়েছে।’ 

ফ্লিপ-ফ্লপস এবং স্যান্ডেল: বিমান ভ্রমণে ফ্লিপ-ফ্লপস বা দুই ফিতা ওয়ালা জুতাও ভালো নয় বলে অভিমত বিশেষজ্ঞদের। মৌরিসিও গার্সিয়ার মতে, ফ্লিপ-ফ্লপসগুলোতে আর্চ সাপোর্ট কম থাকে, ফলে বিমানবন্দরে হাঁটার পর পায়ে ক্লান্তি অনুভব হতে পারে। এছাড়া ফ্লিপ-ফ্লপস খোলামেলা হওয়ায় বিমানে পা ঠান্ডা হয়ে অস্বস্তিবোধ হতে পারে। অন্যদিকে জরুরি পরিস্থিতি দৌড়ানোর প্রয়োজন হলে এ ধরনের স্যান্ডেল বিপদে ফেলতে পারে।   

অতিরিক্ত টাইট জুতা: বিমান ভ্রমণে খোলামেলা ফ্লিপ-ফ্লপস যেমন ভালো নয়, তেমনি অতিরিক্ত টাইট জুতা পরাটাও ভালো নয়। কেননা এ ধরনের জুতা পায়ে ঘামের কারণ হলে ছত্রাক সংক্রমণের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। 

মৌরিসিও গার্সিয়ার মতে, বিমান ভ্রমণে এমন জুতা নির্বাচন করা উচিত, যা আরামদায়ক ও নিরাপদ রাখবে। চওড়া, ভালো আর্চ সাপোর্ট ও সহজ অ্যাডজাস্ট সুবিধা রয়েছে, এমন জুতা বেছে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

Blogger দ্বারা পরিচালিত.