নতুন জাতীয় বেতনস্কেল কার্যকর হলে দেশে মূল্যস্ফীতি কিছুটা বাড়ার ঝুঁকি রয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তবে নতুন পে-স্কেলে সরকারি কর্মচারীদের সবার বেতন দ্বিগুণ হবে-বিষয়টি এমন নয় বলেও জানিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
নতুন পে-স্কেলের কারণে বাজারে কী ধরনের প্রভাব পড়তে পারে এবং তা মোকাবিলায় সরকারের প্রস্তুতি কী-এমন প্রশ্নের জবাবে জাহেদ উর রহমান বলেন, বাংলাদেশে মূল্যস্ফীতি ৫ থেকে ৬ শতাংশের মধ্যে থাকলে সেটিকে সহনীয় পর্যায়ের বলে বিবেচনা করা যায়। তবে দেশে দীর্ঘদিন মূল্যস্ফীতি দুই অঙ্কে ছিল এবং একপর্যায়ে তা ১০ শতাংশেরও বেশি ছাড়িয়ে গিয়েছিল। বর্তমানে অবশ্য মূল্যস্ফীতির হার কিছুটা কমেছে।
তিনি বলেন, বিপুলসংখ্যক মানুষের বেতন বাড়লে মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধির কিছুটা ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। তবে নতুন বেতনস্কেল কার্যকর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সব সরকারি কর্মচারীর বেতন দ্বিগুণ হয়ে যাবে, বিষয়টি এমন নয়।
উপদেষ্টা জানান, দীর্ঘদিন ধরে নতুন বেতনস্কেল না হওয়ায় অনেক সরকারি কর্মচারীর বেতন নিয়মিত বার্ষিক বেতন বৃদ্ধির মাধ্যমে ইতোমধ্যে নতুন স্কেলের কাছাকাছি পৌঁছে গেছে। ফলে নতুন স্কেল কার্যকর হলে অনেকের বেতন প্রত্যাশিত মাত্রায় বাড়বে না।
‘নতুন স্কেলে বেতন ১০০ শতাংশ বাড়বে’ এমন তথ্যের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে তিনি বলেন, এ তথ্য দেখে মনে হতে পারে সবার বেতন দ্বিগুণ হয়ে যাবে। বাস্তবে তা নয়। বিশেষ করে অনেক জ্যেষ্ঠ কর্মচারী নিয়মিত বেতন বৃদ্ধির কারণে নতুন বেতনস্কেলের নির্ধারিত বেতনের কাছাকাছি অবস্থানে রয়েছেন।
মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সরকারের প্রস্তুতি সম্পর্কে জাহেদ উর রহমান বলেন, মূল্যস্ফীতির কারণগুলো মোকাবিলায় বাংলাদেশ ব্যাংক তার হাতে থাকা বিভিন্ন নীতিগত উপকরণ ব্যবহার করবে। পাশাপাশি সরকারও প্রয়োজনীয় নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যবস্থা নেবে।
মূল্যস্ফীতির কারণে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকা জনগোষ্ঠীকে সুরক্ষা দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, মূল্যস্ফীতির সময়ে ঝুঁকিপূর্ণ মানুষদের যতটা সম্ভব সহায়তা দেওয়ার চেষ্টা করছে সরকার।
এ প্রসঙ্গে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, বছরের শেষ নাগাদ ৪০ লাখ পরিবারকে এ কর্মসূচির আওতায় আনার লক্ষ্য রয়েছে। এ নিয়ে বর্তমানে নিবিড়ভাবে কাজ চলছে। বিভিন্ন ধাপ অনুসরণ করে যথাসম্ভব নির্ভুল একটি তালিকা তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে।
তিনি জানান, প্রতিটি পরিবারে গড়ে পাঁচজন সদস্য ধরলে ৪০ লাখ পরিবারের প্রায় দুই কোটি মানুষ এ সহায়তার আওতায় আসবেন। সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ এসব পরিবারের কাছে প্রতি মাসে সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে সরকারের।
এ ছাড়া খাদ্য সহায়তা কর্মসূচি, খোলাবাজারে খাদ্যপণ্য বিক্রি এবং ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের পণ্য বিক্রির আওতাও বাড়ানো হয়েছে বলে জানান জাহেদ উর রহমান। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে মূল্যস্ফীতির চাপ থেকে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীকে সুরক্ষা দেওয়ার চেষ্টা চলছে বলে জানান তিনি।


Social Media Icons